ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) চীন সফরে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন তিনি। মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এটি ভারত ও চীনের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার সীমান্ত আলোচনা। ২০০৩ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের আলোচনা হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিরসনের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর নয়াদিল্লিতে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার প্রথমবারের মতো বেইজিংয়ে এই পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন দোভাল।
দোভালের সফরের সময়টিও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চীন জোটটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত আশাবাদী। যদিও বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দোভালের আসন্ন সফর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সম্প্রতি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপরই ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। গত বছর রাশিয়ার কাজানে মোদী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর সিকিমের নাথু লা, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়েছে। চীন নিয়মিতভাবে অরুণাচলের বিভিন্ন এলাকার নতুন নাম ঘোষণা করে আসছে, যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ভারত।
এমন পরিস্থিতিতে দোভালের চীন সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথও তৈরি করতে পারে।
মন্তব্যসমূহ