পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার পর বিক্ষোভ দমনে এই ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার স্থগিত করেছে ফ্রান্স সরকার। ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।
ফ্রান্সে গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন শহরে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার লেঁসে বিক্ষোভের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেড ওই কিশোর হাত দিয়ে ধরার পর সেটি তার হাতেই বিস্ফোরিত হয়। এতে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পর স্টান গ্রেনেড ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ দমনে এই গ্রেনেড ব্যবহার করা হবে না।
স্টান গ্রেনেড সাধারণত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয়। এটি বিস্ফোরিত হলে প্রচণ্ড শব্দ তৈরি হয়, যার ফলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে বুধবারও ফ্রান্সের অন্তত ৫০০টি স্কুল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবার আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করে। ওই দিন শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই হাজার স্কুল অবরোধ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের বাদ দেওয়া, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাস চলার বিষয়টি পর্যালোচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ।
পুরোনো স্কুল ভবনগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষাখাতের বাজেট কমানোর সরকারি পরিকল্পনা থেকে সরে আসার দাবি তাদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয়।
চলমান আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তার মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ