ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিলেটে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা, সাড়ে ৩ দিনে মিলল ১৭ লাখ

সিলেটে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা, সাড়ে ৩ দিনে মিলল ১৭ লাখ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সিলেটে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। সিলেটের সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে দরগাহর দুটি সিলগালা করা ডেগ এবং প্রশাসনের বসানো দানবাক্স খুলে সবার উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হয়।

গণনায় সাড়ে তিন দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ, প্রায় ৭ আনা সোনা এবং কিছু বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ২টার দিকে প্রশাসনের একটি দল নিয়ে আকস্মিকভাবে দরগাহ চত্বরে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাজারের দানের দুটি ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা দানবাক্স খোলা হয়।

এরপর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানের টাকা গণনা শুরু হয়। গণনার কাজে অংশ নেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রায় ৭ আনা সোনা ও সৌদি রিয়ালসহ বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

পরে এসব অর্থ, সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রশাসনের জিম্মায় নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দানের অর্থ ও সোনা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর নামে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি মো. সারওয়ার আলম। পরে এ বিষয়ে ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহ প্রক্রিয়া নজরদারিতে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে আলোচনা চলছে।

সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকেরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সারওয়ার আলম সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাকে সরানোর পেছনে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তারা।

ট্যাগ : হযরত শাহজালাল মাজার সিলেট

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা, সাড়ে ৩ দিনে মিলল ১৭ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

সিলেটে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। সিলেটের সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে দরগাহর দুটি সিলগালা করা ডেগ এবং প্রশাসনের বসানো দানবাক্স খুলে সবার উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হয়।

গণনায় সাড়ে তিন দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ, প্রায় ৭ আনা সোনা এবং কিছু বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ২টার দিকে প্রশাসনের একটি দল নিয়ে আকস্মিকভাবে দরগাহ চত্বরে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাজারের দানের দুটি ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা দানবাক্স খোলা হয়।

এরপর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানের টাকা গণনা শুরু হয়। গণনার কাজে অংশ নেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রায় ৭ আনা সোনা ও সৌদি রিয়ালসহ বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

পরে এসব অর্থ, সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রশাসনের জিম্মায় নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দানের অর্থ ও সোনা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর নামে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি মো. সারওয়ার আলম। পরে এ বিষয়ে ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহ প্রক্রিয়া নজরদারিতে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে আলোচনা চলছে।

সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকেরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সারওয়ার আলম সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাকে সরানোর পেছনে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তারা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ