বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় বিএনপির চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার বর্তমান সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দিতে গিয়ে দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চান ফখরুল। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা তিনি সবসময় মর্যাদার সঙ্গে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলে সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, ফখরুলের বক্তব্যের সময় সভাকক্ষে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে বক্তব্যে তারেক রহমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দলের কঠিন সময়ে ফখরুল সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর জোর দেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কোনো দূরত্ব তৈরি হওয়া উচিত নয়। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলের বিদায়ী বক্তব্য এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় কৌশল ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মন্তব্যসমূহ