কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামা পরিষদের আপত্তির পর পূর্বনির্ধারিত কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আলিশান রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে জনপ্রিয় ব্যান্ড এ্যাশেজ ও সংগীতশিল্পী নোবেলের গান পরিবেশনের কথা ছিল
কনসার্টকে ঘিরে স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও অনুষ্ঠান শুরুর দিন দুপুরে প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তে তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে পুরাতন স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা মঞ্চের বিভিন্ন সরঞ্জাম খুলে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট কনসার্ট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আয়োজকদের দাবি, এরও অন্তত ১৫ দিন আগে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছিল।
এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদ। সংগঠনটির সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ আবেদনটি করেন।
আবেদনে কনসার্টে গান-বাজনার আয়োজনকে শরিয়তবিরোধী উল্লেখ করে অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার বিকেলে কনসার্ট বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিলেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার দুপুরে কনসার্টের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাওলানা আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, তাদের আবেদনের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কনসার্টের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে আয়োজক প্রতিষ্ঠান আলিশান রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, রেস্টুরেন্টের র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে কনসার্টটির আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করার পর তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে বুধবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কনসার্ট আয়োজন না করার কথা জানানো হয়।
তিনি বলেন, অনুমতি বাতিলের খবর পাওয়ার পর মঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে কনসার্টের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই বলেও জানান তিনি। তবে শুরুতে কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে স্বীকার করেন জেলা প্রশাসক।
তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কনসার্টের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল হওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এদিকে কনসার্টের অনুমতি বাতিলের ঘটনায় স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি একটি সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি, সংগীত ও বিনোদনেরও প্রয়োজন রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ