গাজীপুরের শ্রীপুরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রামদার কোপে নারী-পুরুষ সহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত ১২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনা শনিবার বেলা ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি গ্রামের কসাইপাড়া এলাকায় ঘটে। আহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৪০), মো. কামাল উদ্দিন (৫০), মো. ইন্তাজউদ্দিন (৪৫), মো. রেজাউল করিম (৩০), মো. রফিক মিয়া (৪৫), মো. রায়হান (২৮), মোছা. জরিনা (৪০), মো. মোতালেব (৫৫), মার্জিয়া (৪৫), ফরিদা বেগম (৬০), আকলিমা খাতুন (৩৮), আলমগীর হোসাইন (৪৫), মো. নাজিমউদ্দীন (৬৫), মো. ইসরাক (১৭), ইউসুফ (১৯), রোজিনা বেগম (২২), মারিয়া আক্তার (৩২), নিপা আক্তার (২৬), মিনহাজ (২০) ও হিমি আক্তার (২৬)।
আহত রেজাউল করিম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসাইনের বাড়ির সামনের সরকারি বন বিভাগের জমিতে থাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। সম্প্রতি আলমগীর হোসাইন ও তাঁর লোকজন ওই রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের বৃদ্ধ বাবা কামাল উদ্দিনের ওপর হামলা ও মারধর হয়। তাঁর ডাকচিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সহায়তায় গেলে ধারালো রামদা দিয়ে অতর্কিতভাবে কমপক্ষে ১০ জনকে গুরুতর আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।
অপর পক্ষের আলমগীর হোসাইন বলেছেন, রাস্তাটি বন্ধ করার বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এটি সরকারি জমি হওয়ায় বন বিভাগ সেখানে চারা রোপণ করেছে। তাদের নিজস্ব জমি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নিতে চায় অপর পক্ষ, তাই তারা বাধা দিলে হামলা চালানো হয়েছে এবং কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইতি আক্তার জানান, দুপুর ১২টার মধ্যে হাসপাতালে ২০ জন আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, বন বিভাগের সদস্যরা সেখানে চারা রোপণের কাজ করতে গিয়েছিলেন তখন দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। বন বিভাগের সদস্যরা ওই ঘটনার পর সেখান থেকে ফিরে যান।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পুলিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার খবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ