ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তার দাবি, এই যুদ্ধ আরব দেশগুলোকে বুঝিয়েছে যে নিরাপত্তা বিদেশি সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও সম্মিলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুদ্ধ প্রমাণ করেছে বাইরের শক্তি ও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো সবসময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘাঁটি নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি দাবি করেন, যেসব দেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ছিল না, সেসব দেশ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব সামরিক ঘাঁটি স্বাগতিক দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বাস্তবে ইসরাইলের নিরাপত্তায় বেশি ভূমিকা রেখেছে।
আরাগচি বলেন, যুদ্ধের পর পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভারসাম্যও জরুরি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। তার দাবি, ইরানকে দুর্বল মনে করার ধারণা এখন আর নেই।
আরাগচির ভাষ্য, ৪০ দিনের প্রতিরোধের মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে চাপের মধ্যেও দেশটি নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের সময় ইরানের জনকূটনীতিও কার্যকর ছিল এবং বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী ইরানি কূটনীতিকরা চাপের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভূমিকাও তুলে ধরেন আরাগচি। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদনে পেজেশকিয়ানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আরাগচির দাবি, ইরান শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, এমন একটি সমাধান চেয়েছে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত আবার শুরু না হয়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং দেশের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হবে।
মন্তব্যসমূহ