ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে আমর মোহাম্মদ আলী

৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে আমর মোহাম্মদ আলী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামের জটিল স্নায়ুরোগের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর মারা গেছেন মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর।

মিসরের অ্যাক্টরস সিন্ডিকেটের সভাপতি আশরাফ জাকি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমএস রোগের জটিলতায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। শেষ দিকে তার শারীরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল।

আমরের ভাই আহমেদ মিসরের সংবাদমাধ্যম আল ওয়াতানকে জানান, মৃত্যুর আগে তিনি নিজে দাঁড়ানো ও চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে শেষ সময়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন আমর মোহাম্মদ আলী। ছোট বয়সেই মিসরের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

‘মিস্টার ক্যারাতে’, ‘রাইয়া অ্যান্ড সাকিনা’, ‘হাওয়া ওয়াল তুফফাহা’ এবং ‘হিকায়াত মাজনুনা’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া ‘আরাবেস্ক’ নাটকে শাকশাক চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল।

২০০৬ সালে প্রচারিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হাদায়েক আল শয়তান’-এ তাকে সর্বশেষ অভিনয় করতে দেখা যায়। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতার বিষয়ে কথা বলেন আমর। তিনি জানান, এমএস রোগ তার চলাফেরা, ভারসাম্য ও দৃষ্টিশক্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আবারও অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

তার কঠিন সময়ে মিসরের অ্যাক্টরস সিন্ডিকেট পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে সংগঠনের সদস্যপদ ও বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে। এ রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে স্নায়ুতন্তুর আবরণ মায়েলিন ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে চলাফেরা, দৃষ্টিশক্তি, পেশির শক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে এমএস রোগের স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও চিকিৎসা, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

সূত্র: গালফ নিউজ

ট্যাগ : মিসর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে আমর মোহাম্মদ আলী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামের জটিল স্নায়ুরোগের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর মারা গেছেন মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর।

মিসরের অ্যাক্টরস সিন্ডিকেটের সভাপতি আশরাফ জাকি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমএস রোগের জটিলতায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। শেষ দিকে তার শারীরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল।

আমরের ভাই আহমেদ মিসরের সংবাদমাধ্যম আল ওয়াতানকে জানান, মৃত্যুর আগে তিনি নিজে দাঁড়ানো ও চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে শেষ সময়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন আমর মোহাম্মদ আলী। ছোট বয়সেই মিসরের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

‘মিস্টার ক্যারাতে’, ‘রাইয়া অ্যান্ড সাকিনা’, ‘হাওয়া ওয়াল তুফফাহা’ এবং ‘হিকায়াত মাজনুনা’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া ‘আরাবেস্ক’ নাটকে শাকশাক চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল।

২০০৬ সালে প্রচারিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হাদায়েক আল শয়তান’-এ তাকে সর্বশেষ অভিনয় করতে দেখা যায়। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতার বিষয়ে কথা বলেন আমর। তিনি জানান, এমএস রোগ তার চলাফেরা, ভারসাম্য ও দৃষ্টিশক্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আবারও অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

তার কঠিন সময়ে মিসরের অ্যাক্টরস সিন্ডিকেট পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে সংগঠনের সদস্যপদ ও বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে। এ রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে স্নায়ুতন্তুর আবরণ মায়েলিন ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে চলাফেরা, দৃষ্টিশক্তি, পেশির শক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে এমএস রোগের স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও চিকিৎসা, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

সূত্র: গালফ নিউজ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ