ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান সংঘাতে এশিয়া ছাড়ছে মার্কিন রণতরী

ইরান সংঘাতে এশিয়া ছাড়ছে মার্কিন রণতরী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন পরিকল্পনায়। এ পরিস্থিতিতে এশিয়া থেকে নিজেদের শেষ বিমানবাহী রণতরীও সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় মোতায়েন করা হবে জাহাজটিকে।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থাকবে না। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। ফলে ইরান সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মনোযোগ সরে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অবস্থানের মেয়াদ আগেই বাড়ানো হয়েছিল। জাহাজটির সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

তার মতে, এ পরিস্থিতিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা ওয়াশিংটনের নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন। একই সঙ্গে চীন এই পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগাতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতি চীনকে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ দিতে পারে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার কারণে চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে—এমন ধারণা করার কারণ নেই। তবে বেইজিং এই পরিস্থিতিকে নিজেদের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করতে পারে।

এদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি মিত্র দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলি গত বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিনি বলেন, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আরও জোরদার করতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাডলি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা আবার অন্য অঞ্চলে মোতায়েন করতে পারবে।

সূত্র: এপি

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ইরান সংঘাতে এশিয়া ছাড়ছে মার্কিন রণতরী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন পরিকল্পনায়। এ পরিস্থিতিতে এশিয়া থেকে নিজেদের শেষ বিমানবাহী রণতরীও সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় মোতায়েন করা হবে জাহাজটিকে।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থাকবে না। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। ফলে ইরান সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মনোযোগ সরে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অবস্থানের মেয়াদ আগেই বাড়ানো হয়েছিল। জাহাজটির সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

তার মতে, এ পরিস্থিতিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা ওয়াশিংটনের নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন। একই সঙ্গে চীন এই পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগাতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতি চীনকে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ দিতে পারে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার কারণে চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে—এমন ধারণা করার কারণ নেই। তবে বেইজিং এই পরিস্থিতিকে নিজেদের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করতে পারে।

এদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি মিত্র দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলি গত বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিনি বলেন, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আরও জোরদার করতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাডলি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা আবার অন্য অঞ্চলে মোতায়েন করতে পারবে।

সূত্র: এপি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ