বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম। তার ভাষ্য, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে এবং এর প্রভাব ক্ষমতাসীন দলের ওপর পড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে কয়েকজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, তারা চেয়েছিলেন বর্তমান সরকার পাঁচ বছর সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করুক। তবে তার দাবি, বিএনপি এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যাচ্ছে।
সরকার পরিচালনা নিয়েও সমালোচনা করেন ডাকসু ভিপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দেশের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম। তার অভিযোগ, ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে নাগরিকদের সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান ডাকসু নেতারা। একই সঙ্গে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন সাদিক কায়েম। এসব খাতে বিদ্যমান সংকট ও দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি।
এ সময় ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। তার দাবি, মেধাতালিকায় ভালো অবস্থানে থাকার পরও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কিছু প্রার্থী চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান বিবেচ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ