ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশজুড়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

দেশজুড়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

অপরাধ শনাক্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দেশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে পুলিশ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় ৬৪ জেলা, মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রচলিত সিসিটিভি ক্যামেরার তুলনায় এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন চিহ্নিত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণকক্ষে তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিও রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে পরোয়ানাভুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে সহায়তা নেওয়া হতে পারে। অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীতে ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে এআই ক্যামেরা ব্যবহার করছে পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১৬টি পয়েন্টে বর্তমানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই শতাধিক পয়েন্টে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, গতিসীমা অতিক্রম এবং ট্রাফিক লাইন ভাঙার মতো ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ই-মামলা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিককে মোবাইল ফোনে জানানো যাবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গেও ভবিষ্যতে এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরা থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনাসহ বিভিন্ন মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কথা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এত বড় নজরদারি নেটওয়ার্কে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্য নিরাপদ রাখতে এনক্রিপশন ও ফায়ারওয়াল ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তি পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ পুলিশ এআই ক্যামেরা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেশজুড়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অপরাধ শনাক্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দেশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে পুলিশ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় ৬৪ জেলা, মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রচলিত সিসিটিভি ক্যামেরার তুলনায় এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন চিহ্নিত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণকক্ষে তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিও রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে পরোয়ানাভুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে সহায়তা নেওয়া হতে পারে। অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীতে ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে এআই ক্যামেরা ব্যবহার করছে পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১৬টি পয়েন্টে বর্তমানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই শতাধিক পয়েন্টে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, গতিসীমা অতিক্রম এবং ট্রাফিক লাইন ভাঙার মতো ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ই-মামলা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিককে মোবাইল ফোনে জানানো যাবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গেও ভবিষ্যতে এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরা থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনাসহ বিভিন্ন মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কথা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এত বড় নজরদারি নেটওয়ার্কে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্য নিরাপদ রাখতে এনক্রিপশন ও ফায়ারওয়াল ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তি পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ