জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে আপনারাই বলছেন। এ বিষয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার। বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, জাইমা রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। তিনি সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে (Office of the President of the UN General Assembly) চাকরি পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে সংস্থাটির নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। জাইমা রহমানের নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া এবং আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে। ফলে এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে এই পদের যাবতীয় তথ্য এবং নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।
জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পি-১ পর্যায়ের পদ নতুন স্নাতকদের জন্য। পি-২ পর্যায়ের পদের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। আর পি-৩ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ এবং ডিরেক্টর পর্যায়ের উচ্চপদ রয়েছে।
মাহদী আমিনের দাবি, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পি-৩ পর্যায়ের পদে নিযুক্ত হয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির যে ধরনের সংস্কৃতি দেখা গেছে, জাইমা রহমান সেভাবে সেখানে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কোনো সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হননি।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, জাইমা রহমান নিজের পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে সাধুবাদ জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মন্তব্যসমূহ