মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক জানান, আসামিপক্ষের আগের আইনজীবী লিখিতভাবে আদালতকে জানিয়েছেন যে তিনি আর মামলাটি পরিচালনা করবেন না। এ বিষয়ে তিনি অনাপত্তিপত্রও (এনওসি) দিয়েছেন। এরপর মামলার শুনানি দ্রুত এগিয়ে নিতে আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। একই মাসের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
মামলায় ২৯ জনের সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার অন্য তিন আসামি সজীব শেখ, তার ভাই এবং মা জাহেদা বেগমকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন আদালত।
আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। সে কারণে মামলার ডেথ রেফারেন্স ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গত ৮ জুন হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। এখন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের পর মামলাটির শুনানি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হলো।
মন্তব্যসমূহ