ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং বাংলাদেশি ইলিশ ভারতে পুনঃরপ্তানির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ। অথচ বর্তমানে দেশের স্থানীয় বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এতে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট ও উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও অতীতে তুলনামূলক কম দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ভোক্তা স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ আমদানির পর ভারতীয় কিছু আমদানিকারক তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে বিপুল মুনাফা করছে।

নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের পুনঃরপ্তানি হলে বাংলাদেশ সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দেশের জাতীয় সম্পদের যথাযথ মূল্য পাওয়া নাও যেতে পারে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত না নিলেও ভবিষ্যতে সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার জন্যই আগাম এ আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রয়োজন থাকলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে না করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মূল্যে সরাসরি ইলিশ রপ্তানির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এতে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে যেকোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নাগরিকদের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ইলিশ ভারতে ইলিশ রপ্তানি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং বাংলাদেশি ইলিশ ভারতে পুনঃরপ্তানির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ। অথচ বর্তমানে দেশের স্থানীয় বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এতে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট ও উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও অতীতে তুলনামূলক কম দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ভোক্তা স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ আমদানির পর ভারতীয় কিছু আমদানিকারক তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে বিপুল মুনাফা করছে।

নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের পুনঃরপ্তানি হলে বাংলাদেশ সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দেশের জাতীয় সম্পদের যথাযথ মূল্য পাওয়া নাও যেতে পারে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত না নিলেও ভবিষ্যতে সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার জন্যই আগাম এ আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রয়োজন থাকলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে না করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মূল্যে সরাসরি ইলিশ রপ্তানির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এতে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে যেকোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নাগরিকদের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ