আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সময়ের মধ্যে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের আওতায় থাকা অন্যান্য বিদেশি সেনার উপস্থিতিও শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন সমাপ্তির পথে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। ফলে ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটবে বলে আশা করছে বাগদাদ।
২০০৩ সালের মার্চে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ওই বছরের ডিসেম্বরে সাদ্দামকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচার শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহার করলেও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর ২০১৪ সালে আবারও মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছিল জোটটি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, আইএসকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদাররা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সক্ষম বলেও মনে করছে ওয়াশিংটন।
তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে আগেই মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনা হয়েছিল। তবে দেশটির স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে কিছু মার্কিন ও জোট সেনা অবস্থান করছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কয়েকটি অবস্থান হামলার লক্ষ্যবস্তুও হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ