লিওনেল মেসি যে আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতেও থাকেন এই অধিনায়ক। ফলে সংবাদ সম্মেলনেও মেসিকে ঘিরে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক। তবে এবার মেসিকে নিয়ে করা এক প্রশ্নে স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ।
আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর গুজব। পরে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। ডালাসে স্থানীয় সময় গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান।
স্কালোনি বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। এ নিয়ে আর বিশেষ কিছু বলার নেই। দল ভালো অবস্থায় আছে এবং আগামীকালের ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত।’
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ৪-১ গোলে হারায় জর্ডানকে। ফলে আজ বাংলাদেশ সময় রাতে ডালাসে অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ। জয়ী দল শেষ বত্রিশের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
ম্যাচটি নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা দু’দলই প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছি, যা হয়তো ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।’
অস্ট্রিয়াকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ। তাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। তারা খুব ভালোভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আক্রমণে দ্রুত ও সরাসরি খেলতে সক্ষম। তারা বাছাইপর্বও ভালোভাবে উতরে এসেছে। তাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
এদিকে, মেসির বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর সূত্রপাত হয় আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম লুসু টিভির এক অনুষ্ঠানে। উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া দাবি করেছিলেন, হোর্হে মেসি মারা গেছেন এবং বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের দেশে ফেরা উচিত। পরে খবরটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে পেনিয়া এবং অনুষ্ঠানটির ব্যাকস্টেজ টিমকে বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। বিশ্বকাপে বর্তমানে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডেও দুজন সমান অবস্থানে রয়েছেন, দুজনেরই জয় ১৬টি। আজকের ম্যাচে গোল কিংবা জয়—যেকোনো একটি অর্জনই মেসিকে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে।