যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানিয়েছেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন বন্ধের পাশাপাশি এর জন্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।
রোববার (৯ আগস্ট) তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের অবস্থানে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।
আরাগচির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে এবং আগের লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো সুযোগ দেখছে না ইরান।
ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন আরাগচি। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য নতুন একটি সামুদ্রিক পথ নির্ধারণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা নতুন পথ নির্ধারণের কাজ করছেন।
তবে ওমানের সঙ্গে নতুন সামুদ্রিক পথ নিয়ে সমঝোতা হলেও এর অর্থ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া নয় বলে স্পষ্ট করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়টি আরও কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছিলেন, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো আলোচনা চলছে না। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাকায়ি বলেন, নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরিতে ইরান ও ওমান কাজ করছে। উপকূলবর্তী দুই দেশ হিসেবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান ও ওমানের ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরান-ওমানের আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিচ্ছে কি না তার ওপর।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি