ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু, বিস্ফোরক মেলেনি

দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু, বিস্ফোরক মেলেনি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পৃথক দুটি পরিত্যক্ত বস্তুকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা করে কোনোটির মধ্যেই বিস্ফোরক পায়নি।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রথমে ফার্মগেট এবং পরে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে বস্তু দুটি পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, এমআরটি পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফার্মগেট স্টেশনে পাওয়া বস্তুটি ছিল একটি খালি বস্তা। অন্যদিকে মিরপুর-১০ স্টেশনের পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগের মধ্যে একটি জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের যাত্রী ওঠা-নামার নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ডের ওপর একটি পরিত্যক্ত বস্তা দেখতে পান এমআরটি পুলিশের সদস্যরা।

বস্তাটি কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটির আশপাশ ঘিরে রাখে। পরে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে বিষয়টি জানানো হলে বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম জানান, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সতর্কতার সঙ্গে বস্তাটি পরীক্ষা করে। তবে এর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক কিংবা সন্দেহজনক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। এটি একটি খালি বস্তা ছিল।

এর প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। বেলা পৌনে ১টার দিকে স্টেশনটির ‘বি’ গেটের সিঁড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ দেখতে পান এমআরটি পুলিশের সদস্যরা।

খবর পেয়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ও সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দেহজনক ব্যাগটির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসারে ব্যাগটি এক্স-রে করা হলে এর ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখা যায়। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদভাবে খুলে পরীক্ষা করে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, তল্লাশি শেষে ব্যাগটির ভেতরে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। সেখানে একটি জর্দার কৌটা ও কিছু পান ছিল।

দুটি ঘটনা ঘিরে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ডিএমপি নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি কোথাও পরিত্যক্ত বা সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর রাজধানীতে পরিত্যক্ত বস্তু নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে আইইডি উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় মিরাজ আহমেদ নামে এক পথচারী আহত হন। 

পুলিশের তথ্যমতে, ওই আইইডিতে বৈদ্যুতিক সার্কিট, ব্যাটারি, সালফার ও ধাতব টুকরা ছিল। ছাতার বোতাম চাপলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—এমনভাবে সেটি তৈরি করা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগে একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রেশার কুকার দিয়ে তৈরি বোমা পাওয়ার পর তা নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ট্যাগ : মেট্রোরেল মিরপুর-১০ ফার্মগেট বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু, বিস্ফোরক মেলেনি

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পৃথক দুটি পরিত্যক্ত বস্তুকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা করে কোনোটির মধ্যেই বিস্ফোরক পায়নি।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রথমে ফার্মগেট এবং পরে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে বস্তু দুটি পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, এমআরটি পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফার্মগেট স্টেশনে পাওয়া বস্তুটি ছিল একটি খালি বস্তা। অন্যদিকে মিরপুর-১০ স্টেশনের পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগের মধ্যে একটি জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের যাত্রী ওঠা-নামার নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ডের ওপর একটি পরিত্যক্ত বস্তা দেখতে পান এমআরটি পুলিশের সদস্যরা।

বস্তাটি কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটির আশপাশ ঘিরে রাখে। পরে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে বিষয়টি জানানো হলে বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম জানান, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সতর্কতার সঙ্গে বস্তাটি পরীক্ষা করে। তবে এর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক কিংবা সন্দেহজনক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। এটি একটি খালি বস্তা ছিল।

এর প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। বেলা পৌনে ১টার দিকে স্টেশনটির ‘বি’ গেটের সিঁড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ দেখতে পান এমআরটি পুলিশের সদস্যরা।

খবর পেয়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ও সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দেহজনক ব্যাগটির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসারে ব্যাগটি এক্স-রে করা হলে এর ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখা যায়। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদভাবে খুলে পরীক্ষা করে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, তল্লাশি শেষে ব্যাগটির ভেতরে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। সেখানে একটি জর্দার কৌটা ও কিছু পান ছিল।

দুটি ঘটনা ঘিরে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ডিএমপি নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি কোথাও পরিত্যক্ত বা সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর রাজধানীতে পরিত্যক্ত বস্তু নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে আইইডি উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় মিরাজ আহমেদ নামে এক পথচারী আহত হন। 

পুলিশের তথ্যমতে, ওই আইইডিতে বৈদ্যুতিক সার্কিট, ব্যাটারি, সালফার ও ধাতব টুকরা ছিল। ছাতার বোতাম চাপলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—এমনভাবে সেটি তৈরি করা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগে একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রেশার কুকার দিয়ে তৈরি বোমা পাওয়ার পর তা নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ