জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের ব্যবহৃত প্রবেশপথের সামনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, কে বা কারা ককটেলটি ছুড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
এর আগে একই দিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত ১৮ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করা হয়।
রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে সতর্ক অবস্থান নেন।