চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার বিদেশিদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৬৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে যৌথ অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ। সেখান থেকে ওই বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন এবং ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে। পরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার বিদেশিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে তাদের সহায়তা এবং পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অভিযোগে মোহাম্মদ মহসিন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মহসিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের দাবি, কয়েক দিন আগে মহসিন কুরিয়ারের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে ওই চালানটি ফেরত আসে। কোকেনের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়েই জালালাবাদের ওই ভবনে বিদেশিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।
তবে অনলাইন প্রতারণা ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে এখনো চূড়ান্ত বিচার হয়নি। তদন্তের পর এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হবে।