ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চারটি সিঁড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নতুন ভবনে মোট পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভবনের চার কোণে এবং একটি মাঝামাঝি স্থানে। এতদিন রোগী ও স্বজনেরা মূলত মাঝের সিঁড়িটিই ব্যবহার করতেন।
অন্য চারটি সিঁড়ি তুলনামূলক কম ব্যবহৃত হতো। অতীতে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম সংশ্লিষ্ট টিম নিয়ে সিঁড়িগুলো পরিদর্শন করেন। এরপর চারটি সিঁড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিঁড়িগুলোর নিরাপত্তায় হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে।
লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। পরে ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশন থেকে ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে অবস্থান করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে যুক্ত বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের মাত্রা বড় না হলেও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বাড়ে। এ কারণে পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল।