যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত সর্বশেষ জনমত জরিপে। জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও তার প্রতি আস্থার কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল ভবন হামলার পর তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার সমপর্যায়ে রয়েছে।
জরিপে আরও দেখা যায়, মাত্র ১৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। বিপরীতে ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থনের হার কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, দলটির সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশ, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন। এছাড়া মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান তার বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে খুবই আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। আগে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।
দেশ পরিচালনার অগ্রাধিকার নিয়েও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন অনেক অংশগ্রহণকারী। জরিপে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে ২৭ শতাংশের মতে, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপে ৬৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২২ শতাংশ মনে করেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতি উন্নতির পথে রয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এসব নীতির উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও জনমত বিভক্ত হলেও নেতিবাচক মতামতই বেশি। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এ বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশের মতে, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
এদিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জরিপে ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি মাত্র জরিপকে জনমতের চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে ধরা যায় না, তবুও সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।