মানবপাচার প্রতিরোধ, মামলা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় সহজ করতে একটি ডিজিটাল মানবপাচার তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নতুন প্ল্যাটফর্মে মানবপাচারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যাবে। এর মাধ্যমে মানবপাচারের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মানুষ পাচারকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৭ সালের বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এতে প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা, বিচার এবং বিভিন্ন পক্ষের অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত ও বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও কাজ করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। এটি মানবাধিকার, উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতারণামূলক নিয়োগ, অনিয়মিত অভিবাসন, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।