মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার প্রায় আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের মামলায় দেওয়া ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) একটি ব্যক্তিগত বিমানে হন্ডুরাসের পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হার্নান্দেজ। বিমানবন্দরটি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
সেখানে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। জাতীয় পার্টির কয়েক শ সমর্থকও সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
বিমান থেকে নামার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রানওয়েতে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন হার্নান্দেজ। পরে তিনি আরেকটি বিমানে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।
হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক সপ্তাহ পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের এপ্রিলে বিচারের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করে হন্ডুরাস।
২০২৪ সালে নিউইয়র্কের একটি আদালত কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। হার্নান্দেজ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করে আসছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
তবে দেশে ফিরে হন্ডুরাসে নতুন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন ৫৭ বছর বয়সী হার্নান্দেজ। ‘প্যান্ডোরা ওয়ান’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হওয়ার কথা।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে একটি চক্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ লেম্পিরা বা ১ কোটি ৮ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়। ওই অর্থের একটি অংশ হার্নান্দেজের রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করায় দেশে ফেরার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি।
সম্প্রতি রয়টার্সকে হার্নান্দেজ জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন করবেন তিনি। ভবিষ্যতে আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে আপাতত জাতীয় পার্টির নতুন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করতে চান বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স