দেশে চলমান গ্যাসসংকট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগ আটকে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে চালু থাকলেও কয়েকটি খাতের কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি।
এর মধ্যে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১৪ জুলাইয়ের এক চিঠিতে নতুন শিল্প সংযোগ ও বিদ্যমান সংযোগে লোড বৃদ্ধির আবেদন আপাতত বিবেচনা না করার কথা জানানো হয়। দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে নতুন সংযোগের জন্য ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান সংযোগের অর্থ পরিশোধ করেও অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, গত তিন বছরে প্রায় ৩০০টি সুতাকল ও সাড়ে ৩০০-এর বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। প্রাথমিক বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ করা ২৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ কার্যত আটকে পড়েছে।
উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে অনেক উদ্যোক্তাকে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থের মজুত কমছে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সংকট শুধু বস্ত্র খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কাগজ, পাট, প্লাস্টিক, স্টিল, চামড়া ও সুতা উৎপাদনকারী অনেক কারখানা বন্ধ অথবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। শিল্পের উৎপাদন কমায় দেশে উৎপাদনযোগ্য বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী তা পাননি। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে স্থল ও সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড