জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আগে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালি আল মাসুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। তবে সেটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আগের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ফুটপাতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব কাজ অবশ্যই একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় করা উচিত। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা না করে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দশকের প্রয়োজন বিবেচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব মডেল ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে কোনো নির্মাণকাজ গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী ২০, ৩০ বা ৫০ বছরের অবকাঠামো, আবাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এরই মধ্যে গাছ কাটা ও জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই কেন্দ্রীয় ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ সব উন্নয়নকাজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় করার দাবি জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, অপরিকল্পিত রাস্তা সম্প্রসারণ, ফুটপাত ও সাইকেল লেন নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে, যা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও দাবি করেন, পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া কোনো রাস্তা প্রশস্তকরণ বা অবকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে।
মানববন্ধনে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইশা মনি, প্রচার সম্পাদক আনিকা তাবাসসুম ফারাবী, সিয়াম মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধনের কথা থাকলেও পরে প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।