আওয়ামী লীগ দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছে এবং ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন জাতীয় অর্জন নিজেদের নামে প্রচারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার, ২৫ জুলাই দুপুরে বগুড়া শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন পরিস্থিতি, সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইতিহাসকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কোনো ঘটনা যে সময় ও প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, সেটিকে সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসকে পরিচালিত করা হলে এর প্রকৃত রূপ নষ্ট হয়।
তিনি বলেন, ইতিহাসের আলোচনা কখনো শেষ হয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে নতুন তথ্য ও দলিল সামনে আসে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে মূল্যায়িত হতে পারে। ইতিহাস চর্চা ও এর যথাযথ বিশ্লেষণের দায়িত্ব মূলত গবেষক ও ঐতিহাসিকদের।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, দলটি ভোট ছাড়া কখনো সরকার গঠন করেনি। দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তখন জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা বক্তব্য ও কৌশল গ্রহণ করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছেন। দেশের মানুষ মনে করেন, বিএনপি কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার পরিচালনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তার মতে, জনগণের করের অর্থে যাদের বেতন দেওয়া হয়, তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনো প্রকল্প বা কাজের বিস্তারিত তথ্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চান। ফলে মন্ত্রীদেরও নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত অবগত থাকতে হচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারীদের সিটি করপোরেশনের কর থেকে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড়পুকুরিয়ায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম। এ ছাড়া ১০ জন সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।