যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা এবং তেলবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও কমে গেছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বড় তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে। আগের দিন সোমবার এই সংখ্যা ছিল চারটি।
মঙ্গলবার চলাচল করা জাহাজগুলোর মধ্যে একটি পণ্য নিয়ে প্রণালি থেকে বের হয়েছে। একটি খালি অবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং অন্য একটি পরিশোধিত পাম তেল নিয়ে জলপথটিতে ঢুকেছে।
তবে দৃশ্যমান ট্র্যাকিং তথ্যে কোনো অতিবৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বা এলএনজিবাহী জাহাজকে ওই দিন হরমুজ অতিক্রম করতে দেখা যায়নি।
জাহাজগুলোর স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার প্রবণতা থাকায় প্রকৃত চলাচলের সংখ্যা দৃশ্যমান তথ্যের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে। তা সত্ত্বেও আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমেছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পরই জাহাজ চলাচলে এই পতন দেখা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকি দেওয়ার ইরানি সক্ষমতা দুর্বল করতে টানা ১১তম রাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, উপকূলীয় নজরদারি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হুমকির পর এশিয়ামুখী সৌদি আরবের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছ থেকে পথ পরিবর্তন করেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে একসঙ্গে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স