চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলবন্দর এলাকায় নির্ধারিত চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রকিবুল হাসান ব্রাইট (৩৪) ও আমিন হোসেন (২২)। শনিবার দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও মামলার বাদী সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দিয়ে আসছিলেন তিনি। কখনো ৫ লাখ টাকা, আবার কখনো ২০, ৩০ কিংবা ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন হোটেল ও সিঅ্যান্ডএফ অফিসে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিনি দর্শনা রেলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অফিসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করে নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরে তারা অফিসের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও দর্শনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনায় ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রকিবুল হাসান ব্রাইট ও আমিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবির খান জানান, বিভিন্ন সময়ে একটি চক্র সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রাথমিক তদন্তে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।