নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের তে আনাউ এলাকার কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে সাধারণ পরামর্শে নামিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টা ১৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৩ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৯ নির্ধারণ করা হয় বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে জিওনেটের ভূমিকম্প তালিকায় কম্পনটির মাত্রা এখনো ৬ দশমিক ৩, গভীরতা ৫১ কিলোমিটার এবং অবস্থান তে আনাউ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে দেখানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি মিলফোর্ড সাউন্ড থেকে পুইসেগুর পয়েন্ট পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে।
আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কায় উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে অথবা যতটা সম্ভব ভেতরের দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরুরি সংস্থাটি জানায়, কোনো এলাকায় কম্পন কম অনুভূত হলেও সুনামির ঝুঁকি থাকতে পারে।
বাসিন্দাদের যানজট এড়িয়ে সম্ভব হলে হেঁটে, দৌড়ে অথবা সাইকেলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, প্রথম ঢেউটিই সবচেয়ে বড় নাও হতে পারে এবং সুনামির প্রভাব কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
পরে ভূমিকম্পের মাত্রা সংশোধন এবং নতুন তথ্য বিশ্লেষণের পর প্লাবনের আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়। এরপর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে উপকূলীয় এলাকার জন্য সাধারণ পরামর্শ জারি করা হয়।
তবে মিলফোর্ড সাউন্ড থেকে পুইসেগুর পয়েন্ট পর্যন্ত উপকূলে তীব্র ও অস্বাভাবিক সামুদ্রিক স্রোত এবং পানির অস্বাভাবিক ওঠানামার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পটি পাহাড়ি এলাকার গভীরে সংঘটিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।
সূত্র: জিওনেট
মন্তব্যসমূহ