টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও খাওয়ার স্যালাইন বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, শীলকূপ, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ও পৌরসভা এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িঘর পানির নিচে রয়েছে। বন্যায় পাঁচ শতাধিক কাঁচা ও মাটির বসতঘর ভেঙে গেছে।
পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, বৈলছড়ি, পৌরসভা, কালীপুর, সাধনপুর, গন্ডামারা, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা।
সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, টানা বৃষ্টি, অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি প্রবেশ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁশখালীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে এবং দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এনজিও কর্মী কল্যাণ বড়ুয়াও দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটের কথা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি কৃষকদের শাকসবজির খেত ও বীজতলাও পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ