ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আপাতত যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। বরং আগামী কয়েক মাসে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সামরিক চাপ বাড়িয়ে রাশিয়াকে শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে ধারণা করছে, তা ভুল। ইউক্রেনের হামলার জবাবে রুশ বাহিনী আরও গভীর একটি ‘নিরাপত্তাবলয়’ তৈরির চেষ্টা করবে বলেও তিনি জানান।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে বাল্টিক অঞ্চল বা রোমানিয়ায় রুশ হামলার আশঙ্কার বিষয়টি এখনো বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, নিশ্চিত কোনো সামরিক পরিকল্পনার তথ্য নয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষের মোট সামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ রুশ সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
এত বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকে পুতিন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন। ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, ডনবাস দখল ছাড়া যুদ্ধ শেষ করাকে তিনি বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন না।
এদিকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুতিনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মস্কোকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ন্যাটোর সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ ঘোষণা দেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কোথায় এবং কবে উৎপাদন শুরু হবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনের পরিবর্তে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে উৎপাদনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের বড় ব্যবধানের কারণে দ্রুত যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ