ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আমদানিনির্ভরতা কমাতে টেক্সটাইল খাতে ৬ দফা প্রস্তাব

আমদানিনির্ভরতা কমাতে টেক্সটাইল খাতে ৬ দফা প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বিটিএমএ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসব দাবি তুলে ধরে।

সংগঠনটি বলেছে, দ্রুত নীতিগত সহায়তা না দিলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে তৈরি পোশাক খাত আমদানিনির্ভর হয়ে যাবে এবং এলডিসি-উত্তর সময়ে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বড় ধরনের চাপে পড়বে।

বিটিএমএর লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, সংগঠনটির ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পিনিং, উইভিং, ডেনিম, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। তৈরি পোশাকসহ পুরো টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ভ্যালু চেইনে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, প্যাকেজিং, হোম টেক্সটাইল, টেরি টাওয়েল ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে আরও কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বিটিএমএ জানায়, দেশে তুলা উৎপাদন সীমিত হওয়ায় বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করে সুতা উৎপাদন করতে হয়। এরপরও দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো নিট পোশাক শিল্পের প্রায় শতভাগ এবং ওভেন পোশাক শিল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সুতার চাহিদা পূরণ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুতা আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুতা আমদানি পৌঁছায় ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। বিশেষ করে ভারত থেকে সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিটিএমএ বলছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রধান বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন, রুলস অব অরিজিন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প দুর্বল হলে তৈরি পোশাক রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে।

সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে প্রত্যাহার করা ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করা। দেশীয় সুতা ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৫ শতাংশ করা।

এ ছাড়া প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট আয়কর হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখা, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার, পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা ৫ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের ওপর নোটিশনাল সুদ সংক্রান্ত বিধান থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়া।

বিটিএমএ বলেছে, দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প দুর্বল হয়ে পড়লে তৈরি পোশাক খাত আমদানিকৃত সুতা ও কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে লিড টাইম বাড়বে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এ খাতে করা বড় বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্যাগ : অর্থমন্ত্রী রপ্তানি টেক্সটাইল শিল্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


আমদানিনির্ভরতা কমাতে টেক্সটাইল খাতে ৬ দফা প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বিটিএমএ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসব দাবি তুলে ধরে।

সংগঠনটি বলেছে, দ্রুত নীতিগত সহায়তা না দিলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে তৈরি পোশাক খাত আমদানিনির্ভর হয়ে যাবে এবং এলডিসি-উত্তর সময়ে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বড় ধরনের চাপে পড়বে।

বিটিএমএর লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, সংগঠনটির ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পিনিং, উইভিং, ডেনিম, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। তৈরি পোশাকসহ পুরো টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ভ্যালু চেইনে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, প্যাকেজিং, হোম টেক্সটাইল, টেরি টাওয়েল ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে আরও কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বিটিএমএ জানায়, দেশে তুলা উৎপাদন সীমিত হওয়ায় বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করে সুতা উৎপাদন করতে হয়। এরপরও দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো নিট পোশাক শিল্পের প্রায় শতভাগ এবং ওভেন পোশাক শিল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সুতার চাহিদা পূরণ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুতা আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুতা আমদানি পৌঁছায় ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। বিশেষ করে ভারত থেকে সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিটিএমএ বলছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রধান বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন, রুলস অব অরিজিন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প দুর্বল হলে তৈরি পোশাক রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে।

সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে প্রত্যাহার করা ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করা। দেশীয় সুতা ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৫ শতাংশ করা।

এ ছাড়া প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট আয়কর হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখা, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার, পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা ৫ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের ওপর নোটিশনাল সুদ সংক্রান্ত বিধান থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়া।

বিটিএমএ বলেছে, দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প দুর্বল হয়ে পড়লে তৈরি পোশাক খাত আমদানিকৃত সুতা ও কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে লিড টাইম বাড়বে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এ খাতে করা বড় বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ