সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের কবল থেকে এক জিম্মি জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।
বুধবার বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় তাঁরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন। কোস্ট গার্ডের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০টি তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে তাঁদের হেফাজতে থাকা এক জিম্মি জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং ৪১ জন অপহৃত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন বলেন, সুন্দরবনের সক্রিয় সব দস্যুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্যসমূহ