ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাত্র এক চামচ তেলেই বয়সের ঘড়ি ছুটবে পেছন দিকে

মাত্র এক চামচ তেলেই বয়সের ঘড়ি ছুটবে পেছন দিকে
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

রূপ ধরে রাখতে কিংবা মেদ কমাতে অনেকেই খাবারে তেল এড়িয়ে চলেন। কিন্তু রূপচর্চা ও মুখের যত্নে তেল ব্যবহারের একটি পুরোনো পদ্ধতি আবারও আলোচনায় এসেছে। এই পদ্ধতির নাম অয়েল পুলিং।

অয়েল পুলিং মূলত মুখের ভেতর তেল নিয়ে নির্দিষ্ট সময় কুলকুচি করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। সাধারণত নারিকেল তেল, তিলের তেল বা সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করে এটি করা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার আগে এক টেবিলচামচ তেল মুখে নিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট ধীরে ধীরে কুলকুচি করা হয়। এরপর তেল ফেলে দিয়ে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দাঁত মাজতে হয়।

অনেকেই মনে করেন, অয়েল পুলিং মুখের ব্যাকটেরিয়া কমাতে, দাঁত-মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং করলে প্লাক ও মাড়ির প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এ বিষয়ে এখনো আরও বড় ও মানসম্মত গবেষণা প্রয়োজন।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, অয়েল পুলিং মুখের যত্নে সহায়ক অভ্যাস হতে পারে, তবে এটি কখনোই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লসিং বা ডেন্টাল চেকআপের বিকল্প নয়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনও বলছে, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতির কারণে তারা অয়েল পুলিংকে দাঁতের নিয়মিত যত্নের বিকল্প হিসেবে সুপারিশ করে না।  

অয়েল পুলিং নিয়ে ত্বক ও বয়স কমানোর দাবিও সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। তবে সরাসরি অয়েল পুলিং করলে বয়স কমে যায় বা ত্বকের বলিরেখা দূর হয়, এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। যদিও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ত্বকের বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়, অয়েল পুলিংয়ের সঙ্গে ত্বকের বার্ধক্য কমার সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।  

অয়েল পুলিং করার সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো তেল গিলে না ফেলা। কুলকুচির পর তেল অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। যাদের নারিকেল বা তিলজাতীয় তেলে অ্যালার্জি আছে, তাদের এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত। মুখে ঘা, দাঁতের গুরুতর সমস্যা বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সঠিকভাবে করা হলে অয়েল পুলিং মুখের পরিচর্যার একটি সহায়ক অভ্যাস হতে পারে। তবে সৌন্দর্য বা স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে এটিকে সাধারণ মুখের যত্নের একটি অতিরিক্ত পদ্ধতি হিসেবেই দেখা উচিত।

ট্যাগ : য়েল পুলিং রূপচর্চা মুখের যত্ন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


মাত্র এক চামচ তেলেই বয়সের ঘড়ি ছুটবে পেছন দিকে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

রূপ ধরে রাখতে কিংবা মেদ কমাতে অনেকেই খাবারে তেল এড়িয়ে চলেন। কিন্তু রূপচর্চা ও মুখের যত্নে তেল ব্যবহারের একটি পুরোনো পদ্ধতি আবারও আলোচনায় এসেছে। এই পদ্ধতির নাম অয়েল পুলিং।

অয়েল পুলিং মূলত মুখের ভেতর তেল নিয়ে নির্দিষ্ট সময় কুলকুচি করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। সাধারণত নারিকেল তেল, তিলের তেল বা সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করে এটি করা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার আগে এক টেবিলচামচ তেল মুখে নিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট ধীরে ধীরে কুলকুচি করা হয়। এরপর তেল ফেলে দিয়ে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দাঁত মাজতে হয়।

অনেকেই মনে করেন, অয়েল পুলিং মুখের ব্যাকটেরিয়া কমাতে, দাঁত-মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং করলে প্লাক ও মাড়ির প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এ বিষয়ে এখনো আরও বড় ও মানসম্মত গবেষণা প্রয়োজন।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, অয়েল পুলিং মুখের যত্নে সহায়ক অভ্যাস হতে পারে, তবে এটি কখনোই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লসিং বা ডেন্টাল চেকআপের বিকল্প নয়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনও বলছে, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতির কারণে তারা অয়েল পুলিংকে দাঁতের নিয়মিত যত্নের বিকল্প হিসেবে সুপারিশ করে না।  

অয়েল পুলিং নিয়ে ত্বক ও বয়স কমানোর দাবিও সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। তবে সরাসরি অয়েল পুলিং করলে বয়স কমে যায় বা ত্বকের বলিরেখা দূর হয়, এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। যদিও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ত্বকের বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়, অয়েল পুলিংয়ের সঙ্গে ত্বকের বার্ধক্য কমার সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।  

অয়েল পুলিং করার সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো তেল গিলে না ফেলা। কুলকুচির পর তেল অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। যাদের নারিকেল বা তিলজাতীয় তেলে অ্যালার্জি আছে, তাদের এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত। মুখে ঘা, দাঁতের গুরুতর সমস্যা বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সঠিকভাবে করা হলে অয়েল পুলিং মুখের পরিচর্যার একটি সহায়ক অভ্যাস হতে পারে। তবে সৌন্দর্য বা স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে এটিকে সাধারণ মুখের যত্নের একটি অতিরিক্ত পদ্ধতি হিসেবেই দেখা উচিত।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ