ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে ৪৪ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ: আইনমন্ত্রী

পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে ৪৪ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান | ফাইল ছবি
ফলো করুন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আইনমন্ত্রী জানান, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ ও ৪৫সি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয়ে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের নীতিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে।

তিনি আরও জানান, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে জাতিসংঘ এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ, অতিরিক্ত সাক্ষী ও নতুন প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগও যুক্ত করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সে লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলেও তদন্ত ও বিচার চালিয়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার এড়াতে পলাতক হওয়ার প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামির ন্যায়সঙ্গত বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময়, আইনজীবীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অধিকার এবং প্রয়োজন হলে সরকারি খরচে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং ভুক্তভোগীদের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতীয় সংসদ আইনমন্ত্রী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে ৪৪ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আইনমন্ত্রী জানান, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ ও ৪৫সি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয়ে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের নীতিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে।

তিনি আরও জানান, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে জাতিসংঘ এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ, অতিরিক্ত সাক্ষী ও নতুন প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগও যুক্ত করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সে লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলেও তদন্ত ও বিচার চালিয়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার এড়াতে পলাতক হওয়ার প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামির ন্যায়সঙ্গত বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময়, আইনজীবীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অধিকার এবং প্রয়োজন হলে সরকারি খরচে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং ভুক্তভোগীদের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ