এক রূপকথার সমাপ্তি টেনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে নিজের ২০৮তম ও বিদায়ী ম্যাচেও চেনা রূপে ধরা দিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ম্যাচে আর্জেন্টিনা যে তিনটি গোল করেছে, তার প্রতিটিতেই ছিল মেসির প্রত্যক্ষ অবদান—নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দল গোল না পেলেও সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক মেসি নিজেই। প্রতিপক্ষের রক্ষণসীমায় একাধিক সুযোগ তৈরির পর দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭তম মিনিটে প্রথম গোলের মুখ খোলে আর্জেন্টিনা। মেসির নিখুঁত কর্নার কিকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন নিকলাস ওতামেন্দি। কাকতালীয়ভাবে, সোনালী প্রজন্মের অন্যতম কাণ্ডারি এই সেন্টারব্যাকও মেসির সঙ্গে একই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন।
এর কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা তরুণ প্রতিভা নিকো পাজকে বক্সের বাইরে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। সেখান থেকে চমৎকার বাঁকানো শটে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাজ, যা মেসির নামের পাশে যোগ করে দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে অগাস্তিন জিয়াই বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। জোরালো স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের বিদায়ী মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন মেসি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
পরিসংখ্যান ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সোফা স্কোর এই ম্যাচে মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করেছে ৮.৫ রেটিং দিয়ে। ঝড়ঝাপটায় বহুবার পতনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা এই দক্ষ কাণ্ডারি অবশেষে থামলেন, রেখে গেলেন এক অনন্য ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
মন্তব্যসমূহ