দেশজুড়ে সমবায় আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশে নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি সবার জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের কুচিলাবাড়ি (জোড়া পাম্প) এলাকায় কালব রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সমবায় সম্পূর্ণভাবে মানুষের নিজস্ব উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। এখানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা এলাকার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু কয়েকজন মানুষের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা।’
তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষির উন্নয়ন এবং মানুষের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সমবায়ের মধ্যেই রয়েছে।
কালীগঞ্জে সমবায় কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও দেশব্যাপী একই ধরনের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তাঁর মতে, একটি কৃষিপ্রধান দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে সমবায় আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, কালীগঞ্জের মতো দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সমবায় আন্দোলনকে গতিশীল করতে হবে। জাতীয় সমবায় দিবস যেন শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। সমবায় কার্যক্রম বিস্তৃত হলে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করার প্রচেষ্টাও আরও কার্যকর হতে পারে।
সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থে কয়েকজন মানুষের স্বেচ্ছায় একত্র হয়ে কাজ করার মধ্য দিয়েই সমবায় গড়ে ওঠে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়।
নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সমবায়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত উদ্যোগে নারীদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।














মন্তব্যসমূহ