বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণের তথ্য আদালতে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে সব প্লাস্টিক বর্জ্য পুরোপুরি সরানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট না থাকায় প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নদীর তীর সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত করা এবং নতুন করে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জমে থাকা সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যাতে সেখানে প্লাস্টিক কিংবা অন্য কোনো বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুনানিতে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে আনুমানিক ৩০০ টন বর্জ্য সরানোর কথা জানানো হয়। তবে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।
বিশেষ করে নদীর তীর থেকে সব প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া একই স্থানে পুনরায় বর্জ্য ফেলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
রিট আবেদনকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানিতে এসব ঘাটতি তুলে ধরেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি আদালতকে জানান, দাখিল করা প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ভবিষ্যতে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্যও অনুপস্থিত। এসব কারণে প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
শুনানি শেষে বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আদেশ দেন হাইকোর্ট। নদীর তীর থেকে সব প্লাস্টিক বর্জ্য সরানো এবং নতুন করে বর্জ্য ফেলা বন্ধে গৃহীত কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর জমা দেওয়া প্রতিবেদন গ্রহণ না করে তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি রিটের ধারাবাহিকতায় এ আদেশ এসেছে। পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন এইচআরপিবির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে নদীর দূষণ বন্ধে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
পরে নদীর তীরে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সম্পূরক আবেদন করা হয়। এর ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগ এলাকায় বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে সেখানে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এইচআরপিবির পক্ষে সম্পূরক আবেদন করেন মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী।
মামলায় নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ মোট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রোববারের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।














মন্তব্যসমূহ