ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সমবায় আন্দোলন এগিয়ে নিতে আইন সংস্কারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হওয়ায় সমবায় আন্দোলন কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান আইন সংস্কার এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সমবায় দিবস ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল টিকিয়ে রাখার চিন্তা করলে চলবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এজন্য যেসব আইন সমবায় কার্যক্রমের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে।আইন সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং সংসদীয় কমিটির সদস্যদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।সমবায় খাতের অন্যতম সমস্যা হিসেবে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, সমবায় সমিতিগুলো বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করলেও সেগুলো যথাযথভাবে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।এই সংকট দূর করতে সমবায় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমবায়ভিত্তিক বিপণন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।বাংলাদেশের সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধশিল্পের উদাহরণ হিসেবে মিল্ক ভিটার কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একসময় প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গবাদিপশুর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুগ্ধশিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মিল্ক ভিটা।বর্তমানেও প্রতিষ্ঠানটি দুধ, মাখন, চিজ ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছে উল্লেখ করে তিনি এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো, প্রচার জোরদার এবং বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।এ প্রসঙ্গে ভারতের সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান আমুলের সাফল্যের কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। সমবায় আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে আমুল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত ও সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানান।দেশের সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ষাটের দশকে ড. হামিদ খানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কুমিল্লা মডেল আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছিল। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।রাষ্ট্রপতি জানান, সম্প্রতি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি পরিদর্শন করে সেখানকার বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেছেন তিনি। জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানেও কয়েকটি সফল সমবায় উদ্যোগের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।এসব উদ্যোগের মধ্যে সমবায়ের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনা এবং আবাসন খাতে সফল কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি একজন নারী সমবায় নেত্রীর অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।সমবায় খাতের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ২০০৬ সালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবন উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সমবায় কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দিনটি দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতি নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছিল।এই দিনের চেতনা ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং নানা ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি বিগত সময়ে অর্থপাচার ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।এসব সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তর এই আন্দোলনকে আরও কার্যকরভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত সমবায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও সমবায় খাতের উন্নয়নে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সমবায় আন্দোলন এগিয়ে নিতে আইন সংস্কারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির