ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান তেহরানে শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তাঁর মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। সেখানে বিদেশি বিশিষ্টজন, ধর্মীয় আলেম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মরদেহ তাঁর সঙ্গীদের মরদেহসহ শুক্রবার সকালে গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান প্রার্থনা হলে রাখা হয়। দুই দিনব্যাপী জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিদেশি অতিথি ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হন।
প্রথম দিকের বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রেস টিভির দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় নিহত হন খামেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ দেশের প্রতিনিধিদল, জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত আটটি দেশের সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাঘাই আরও জানান, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। অনেক দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিশেষ দূত পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। তবে যেসব ইউরোপীয় দেশ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান।
জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হয়। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহতদের পরিবার এবং খামেনির দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বজনরা অংশ নেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মত ও অবস্থান নির্বিশেষে সব ইরানিকে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই উপস্থিতি জাতীয় ঐক্য এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আদর্শের প্রতি আনুগত্যের চিত্র তুলে ধরবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিনের এই শেষ বিদায় আয়োজনে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। শনিবার ও রোববার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ রাখা হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কোম, ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফন করা হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
মন্তব্যসমূহ