ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ইরানের তেহরান, কোম ও মাশহাদ শহর ছাড়াও ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাখো মানুষ, বিদেশি প্রতিনিধি, ধর্মীয় আলেম এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল এই আয়োজনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সঙ্গে তাঁর পরিবারের চার সদস্যকেও শেষ বিদায় জানানো হবে। তারা হলেন তাঁর জামাতা ড. মেসবাহ আল-হোদা বাঘেরি কানি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় তাঁরা নিহত হন।
প্রেস টিভি জানায়, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ৩ জুলাই শুরু হবে। প্রথম ধাপে ৪৫টির বেশি দেশের বিদেশি কর্মকর্তা তেহরানে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদে ধারাবাহিকভাবে জনসাধারণের শ্রদ্ধা, জানাজা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাফন করা হবে।
এই সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের স্লোগান রাখা হয়েছে ‘ওয়ান মাস্ট রাইজ’ বা ‘উঠে দাঁড়াতেই হবে’। আনুষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক গ্রহণ করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ তেহরান, কোম ও মাশহাদে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, পরিবহন, চিকিৎসা, পানি সরবরাহ ও ভিড় ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তেহরানে প্রথম বড় আয়োজন হবে ইমাম খোমেনি মোসাল্লায়। ৪ জুলাই সকাল ৬টা থেকে মোসাল্লার দরজা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বিশাল এই প্রার্থনা কমপ্লেক্স দুই দিন ধরে দিনরাত খোলা থাকবে, যাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর সোমবার রাজধানীর রাস্তায় বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
তেহরানের জানাজা আয়োজন কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, মোসাল্লা ও আশপাশের এলাকা কয়েকটি কার্যকরী অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগার, পানির স্টেশন, চিকিৎসা কেন্দ্র, নামাজের জায়গা, শৌচাগার, তথ্যকেন্দ্র এবং মা ও শিশুদের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোসাল্লা এলাকায় প্রায় ১১০টি পানির স্টেশন চালু থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, তেহরানের শোক মিছিলে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। কিছু পূর্বাভাসে এই সংখ্যা দেড় থেকে দুই কোটির মধ্যে হতে পারে বলেও বলা হয়েছে। এত বড় জনসমাগম সামাল দিতে প্রচলিত একক রুটের বদলে রাজধানীর বিভিন্ন বড় সড়কজুড়ে একটি বিস্তৃত শোক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
তেহরানের পর মঙ্গলবার কোমে বড় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান হবে। জামকারান মসজিদে গণজানাজার আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের ধারণা, হজরত ফাতিমা মাসুমার মাজার থেকে জামকারান মসজিদ পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মুসল্লিরা সমবেত হবেন।
এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় আনুষ্ঠানিকতা হবে। ইরাকি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক নেতা, গোত্রপ্রধান ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে এই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রেস টিভি। নাজাফে ইমাম আলীর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন ও হজরত আব্বাসের মাজার প্রাঙ্গণে কফিন নেওয়া হবে।
শেষ ধাপে ৯ জুলাই মাশহাদে খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাফন করা হবে। মাশহাদের মেয়র মোহাম্মদ রেজা কালান্দার শরিফ জানিয়েছেন, শোকযাত্রীদের জন্য প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে জনসাধারণ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর পর মরদেহ ইমাম রেজার মাজার এলাকায় নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
মন্তব্যসমূহ