১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও স্বাধীনতার পর বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছিল, যা এ দেশের মানুষ মেনে নেয়নি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে ১৯৭৫ সাল এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের নেতৃত্বে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের আগের দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের দোসররা গুম, খুন ও গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর এবার উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, দিবসটি ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের বড় পরিবর্তন এসেছিল। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপি পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।














মন্তব্যসমূহ