শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিশাল ‘গ্রাম পুলিশ জাতীয় মহাসমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন।
গ্রাম পুলিশ ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ঈদ বোনাস চালু করা হয়েছিল, যা সফলভাবে কার্যকরও হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে চলে আসা পুরোনো পদবি পরিবর্তন করে আধুনিক ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে। তবে এটি শুধু পদবির পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সাথে বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরাসরি কার্যকর হবে।
ঘোষিত বর্ধিত বেতন কাঠামোর হিসাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সাধারণ গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ প্রধানের (দফাদার) মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাকরি শেষে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবসরকালীন আনুতোষিক সুবিধার পরিধি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রান্তিক পর্যায়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে অন্তত দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কর্মরত নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি আজ থেকেই পূর্ণ ৬ মাস কার্যকর করার নির্দেশ দেন তিনি।
তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক সেবায় গ্রাম পুলিশের অনবদ্য ভূমিকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ হিসেবে নামকরণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।














মন্তব্যসমূহ