খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে আগুনে বাসটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায় কিসলু জানান, বাসটির চালক ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ অতিরিক্ত গরম অনুভব করে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। এরপর তিনি বাসে আগুন জ্বলতে দেখতে পান।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কেউ পরিকল্পিতভাবে বাসটিতে আগুন দিয়েছে কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ বলেন, ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই বাসটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
বিআরটিসির টিকিট কাউন্টারের বিক্রেতা বিদ্যুৎ চাকমা জানান, ভোর ৪টার দিকে ফোনে বাসে আগুন লাগার খবর পান তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি পুড়ে যেতে দেখেন। তবে আগুন দেওয়ার পেছনে কারা রয়েছে বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার। তাঁর অভিযোগ, এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। পাশাপাশি মব সৃষ্টি করে অরাজকতা চালানো ব্যক্তিরাও এতে সহযোগিতা করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।














মন্তব্যসমূহ