ইসরায়েলে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কে সরকার গঠনের প্রথম ম্যান্ডেট পাবেন, সে বিষয়ে রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয় নেতাই একক শক্তিতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেননি।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক পরামর্শ সভা শেষে দেখা গেছে, নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুস্পষ্ট সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোট। এর বিপরীতে নেতানিয়াহুর ঝুলিতে সমর্থন এসেছে মাত্র ৪৬ জন এমপির। যদিও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী ব্লকের ৫৩টি আসন ছিল, তবে কট্টর গোঁড়া ইহুদিদের (হেরেদি) সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ সংক্রান্ত অব্যাহতি বিল নিয়ে চরম মতবিরোধের জেরে দীর্ঘদিনের মিত্র ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ (ইউটিজে) শেষ মুহূর্তে তাঁকে সমর্থন দেওয়া থেকে সরে দাঁড়ায়।
কাগজে-কলমে আইজেনকোট ৬৭ জনের সমর্থন নিশ্চিত করলেও এই সংখ্যার বড় অংশই এসেছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর মাধ্যমে, যারা গত নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে আইজেনকোট আগেই স্পষ্ট করেছেন, তিনি আরব দলগুলোকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবেন না। ফলে আরবদের মন্ত্রিসভার বাইরে রাখলে তাঁকে অন্য গোঁড়া দলগুলোকে পক্ষে এনে নিজস্ব ৬১ আসনের কোটা পূরণ করতে হবে, যা এখনো বেশ জটিল সমীকরণ।
অপরদিকে নেতানিয়াহুর সামনে টিকে থাকার পথ আরও সংকীর্ণ। ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে বিরোধী শিবিরের কোনো দলকে ভাগিয়ে আনতে হবে অথবা আইজেনকোটের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে ‘ঐক্য সরকার’ গড়তে হবে; যদিও বিরোধীরা এ ধরনের প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ (রাম) মূলত নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী শাসন অবসানের লক্ষ্যেই আইজেনকোটকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিয়েছে। রাম সরাসরি সরকারে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে কৌশলগত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইজেনকোটের পক্ষ থেকে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতির শর্ত দেওয়া হয়েছে। জবাবে আরব নেতারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বাড়িঘর উচ্ছেদ বন্ধ, অপরাধ দমন এবং চরমপন্থী সরকারের পতন ঘটানোই তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার।
সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের জন্য যাকে প্রথম সুযোগ দেবেন, তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এভাবে কোনো নেতাই নির্ধারিত সময়ে কার্যকর সরকার গঠন করতে না পারলে পার্লামেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া ও বারবার নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নেতানিয়াহুর জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করতে পারে, যা তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল রাখার পথ খুলে দেয়।
সূত্র: আল জাজিরা














মন্তব্যসমূহ