ব্যাংক কেলেঙ্কারি ঘিরে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া। অভিশংসনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। বিতর্কিত উয়েনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ২৯ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারছেন না।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পেনিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে দ্রুতগতির অভিশংসন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে। এর পরপরই নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রম অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের হিসাব জব্দ হয়ে যায়। এতে গ্রাহকদের নিজেদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এমনকি খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ব্যাংকটির এই সংকটকে কেন্দ্র করে প্যারাগুয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পেনিয়ার প্রশাসনের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার পর উয়েনো ব্যাংকের ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় তহবিল ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ কোটি থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এদিকে ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠানে পেনিয়ারও প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন।
কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একই সময়ে খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে পেনিয়া নিজের রাজনৈতিক দলের সমর্থনও হারান। বিরোধী দলের সিনেটররা এই ঘটনাকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।
পেনিয়া আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে সাধারণ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।














মন্তব্যসমূহ