আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ দেশের জনগণ তাদের আর কোনো দিন রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না এবং পলাতক কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির প্রত্যাবর্তন বাংলার মাটিতে হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক পরিকল্পিত অস্থিরতা ও নাশকতার পেছনে এই পলাতক ফ্যাসিস্ট অপশক্তির সরাসরি ইন্ধন ও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজের পূর্বে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতক অপশক্তি দেশকে যেকোনো মূল্যে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তবে এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না; রাজনীতি করার ন্যূনতম নৈতিক অধিকারও আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে। যারা তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ফ্যাসিস্টদের এ দেশে পুনর্বাসন করতে চায় এবং তাদের প্রত্যাবর্তনের অপকৌশল আঁটছে। জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের এই চক্রান্ত রুখে দেবে।’
ইসলাম ও রাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে অনেকেই ধর্মের নাম ভাঙিয়ে দল পরিচালনা করে, অথচ তাদের কার্যক্রমে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ও অনুশাসনের কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি তাদের দলীয় প্রতীকেও ইসলাম নেই এবং তারা কখনো কুরআন, সুন্নাহ ও শরিয়াহভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট কথাও বলে না। বিপরীতে বিএনপি সরকার সংবিধানে পুনরায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার নীতিগত অঙ্গীকার করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি আজীবন খাঁটি ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সেবা করে এসেছে।
বিগত শাসনামলের দমনপীড়নের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের নির্মম গণহত্যায় কত নিরীহ আলেম-ওলামা শহীদ হয়েছেন তার সঠিক হিসাবও জাতি জানতে পারেনি; অনেকের লাশ গুম করা হয়েছে, কবরের সন্ধানও মেলেনি। তবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, শাপলা চত্বরের সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার প্রতিটি ঘটনার বিচার এ দেশের মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে।
সম্মেলনে বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এমপি, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি, সরোয়ার আলমগীর এমপি, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ওলামায়ে কেরাম।














মন্তব্যসমূহ