যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় ৫ কোটি ৪৫ লাখ ভোটার। নির্বাচনের মূল দিনের আগেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে কিংবা ডাকযোগে নিজেদের ভোট জমা দিয়েছেন। আগাম ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ দেখা গেছে ৪১ বছরের বেশি বয়সীদের।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাবের পরিসংখ্যানের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আগাম ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় তিন কোটি ভোটার নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট পূরণ করে ফেরত দিয়েছেন প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ ভোটার।
এই দুই পদ্ধতিতে আগাম ভোটদানের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৪৫ লাখে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোটাররা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অথবা ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে ভোট দিতে পারেন।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগাম ভোটদাতাদের বড় অংশই মধ্যবয়সী ও প্রবীণ।
ইলেকশন ল্যাবের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪১ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের অংশগ্রহণ ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণ ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ।
এই দুই বয়সসীমার ভোটারদের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৮০ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে এ হিসাব বয়সসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটারদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই একে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের পূর্ণাঙ্গ বয়সভিত্তিক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাব যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনসংক্রান্ত ভোটদানের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে থাকে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আগাম ভোটের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
কতজন সরাসরি ভোট দিয়েছেন, কতটি ডাকযোগের ব্যালট ফেরত এসেছে এবং কোন বয়সের ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি, সেসব তথ্যও পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে।
তবে আগাম ভোটের সংখ্যা থেকে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কত ভোট পড়েছে, তা জানা যায় না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্যসমূহ