সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে নিরাপদে রাখার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদ বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাঁদের নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণও বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে চলে গেছে।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদের অভিযোগ, বিরোধী দল কোথায় যাচ্ছে, কী কর্মসূচি পালন করছে এবং কী বক্তব্য দিচ্ছে, সেসব বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। অথচ ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কার্যক্রম ও পরিকল্পনা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তবে আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল কিংবা নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপস্থাপনের বিষয়টি প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
তাঁর দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পোশাকশিল্পে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে কেউ সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সেই পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, গত আট মাসে বিএনপি সরকারের পরিচালনাগত ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার একটি আন্দোলন কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তা বুঝতে পারছে না।
বিএনপি সরকার আন্দোলন সামাল দিতে না পারলে এনসিপিকে সেই দায়িত্ব দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ৫০০টি আন্দোলনে সমঝোতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ।
এনসিপির আহ্বায়কের মতে, কোনো আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা থাকা জরুরি।
তবে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের সেই আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ।
তাঁর দাবি, বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপি শ্রমিকদের আন্দোলনে উৎসাহ দিলেও ক্ষমতায় এসে মজুরি কাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যেও বিএনপির প্রতি আস্থা কমেছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করলেও শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা সমর্থন করেন না বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে, তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বা সন্ত্রাস সৃষ্টি হোক, সেটি এনসিপি চায় না।
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন ও মাহিন সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্যসমূহ